২০২৪ সাল

৪০ শতাংশ বিদ্যুতের উৎস পরিচ্ছন্ন জ্বালানি

কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে ক্লিন এনার্জি বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার।

কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে ক্লিন এনার্জি বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সারা বিশ্বে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া গেছে ২০২৪ সালে। জ্বালানিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এম্বারের পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৯৪০-এর দশকের পর গত বছর প্রথমবার বিদ্যুৎ চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করেছে বিশ্ব। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌরশক্তির বিপুল ব্যবহারের ফলে এ মাইলফলক অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ তিন বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ব্যবহার দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতিবেদনে গত দুই দশকে জ্বালানির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল উৎস হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে সৌরশক্তি।

এম্বারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিল ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, ‘জ্বালানির উৎস পরিবর্তনে সৌরশক্তি বিশ্বব্যাপী মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ব্যাটারি স্টোরেজের সঙ্গে মিলে একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তি হতে চলেছে সৌরশক্তি। বিশ্বের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দ্রুত বর্ধনশীল ও বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠছে এটি।’

তবে বৈশ্বিকভাবে ব্যবহৃত জ্বালানি উৎসগুলো তুলনা করলে সৌরশক্তি এখনো ছোট একটি অংশ। এম্বারের দেয়া তথ্যমতে, গত বছর সৌরশক্তি বিশ্বব্যাপী মোট বিদ্যুতের ৭ শতাংশ সরবরাহ করেছে। বায়ুশক্তির হিস্যা এর থেকে সামান্য বেশি, ৮ শতাংশ।

দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে জলবিদ্যুৎ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উৎসটির অবদানও বেশ স্থিতিশীল। ২০২৪ সালে বিশ্বের বিদ্যুতের ১৪ শতাংশ সরবরাহ করেছে জলবিদ্যুৎ। আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে পুরনো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলোর একটি জলবিদ্যুৎ। বিশেষ করে চল্লিশের দশকে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহের বড় উৎস ছিল জলবিদ্যুৎ। তবে প্রতিবেশগত ভূমিকার কারণে এ উৎস নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এছাড়া চল্লিশের দশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ ছোট ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক ও জৈবশক্তিসহ অন্য যেকোনো উৎসের তুলনায় সৌরশক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ফলে বিশ্বব্যাপী সংকুচিত হতে শুরু করেছে কয়লা ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার।

এর আগে এম্বার পূর্বাভাসে জানিয়েছিল, ২০২৩ সাল নাগাদ বিদ্যুৎজনিত কার্বন নিঃসরণ কম হবে। একই প্রত্যাশা ছিল জলবায়ু বিশেষজ্ঞদেরও। তবে বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়ন নতুন রেকর্ড গড়ায় এয়ার কন্ডিশনিং ও রেফ্রিজারেশন সিস্টেমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, যা ওই বছর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়িয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। এর প্রভাব পড়ে জ্বালানির উৎসগুলোর ওপর।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চাহিদা বৃদ্ধির ফলে গত বছর বৈশ্বিক বিদ্যুৎ খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৮৮টি দেশের বিদ্যুৎ বাজারের ৯৩ শতাংশ পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

অব্যাহত তাপপ্রবাহের ফলে আগামীতেও বিদ্যুতের চাহিদা বর্ধনশীল থাকবে বলে অভিমত এম্বারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিল ম্যাকডোনাল্ডের। সেইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডাটাসেন্টার, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন ও তাপীয় পাম্পগুলোয় সরবরাহের কারণে চাপ থাকবে বিদ্যুতের চাহিদায়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী এ প্রযুক্তিগুলো সম্মিলিতভাবে বিদ্যুতের চাহিদা দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

আরও